ছাত্রলীগের সব ধর্ষকলীগ

মশিউল হুসাইন খান/ যুক্তরাজ্য

করোনাতেও থেমে নেই ছাত্রলীগের রাজনৈতিক ক্ষমতাচর্চার ধার। সমতল পাহাড়ে  দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। যারা ক্ষমতাশীল দলের ছত্রছায়ায় রয়েছে।  স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে যাওয়া এক তরুণীকে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের করা হয়েছে। সিলেট নগরীর টিলাগড় এলাকায় এমসি কলেজ ছাত্রাবাসের ৭ নম্বর ব্লকের একটি কক্ষের সামনে এ ঘটনা ঘটে। করোনা পরিস্থিতিতে ছাত্রাবাস বন্ধ ছিল। কিন্তু আমাদের হাসিনার প্রিয় সন্তানরা ছাত্রাবাস ত্যাগ করেন নাই। তারা সেখানে মদ-গাজা আর নারীদের হয়রানী করা জন্য অপেক্ষা করতো।ছাত্রলীগের একটি পক্ষের ছয়-সাতজন কর্মী সেই নারীকে ধর্ষন করেন।  একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়ে দেখতে হচ্ছে আমার দেশের কোন বোন দেশের রাজণীতি কর্মী দ্বারা ধর্ষিত হচ্ছে। হবেই না কেন। আওয়ামীলীগ কোটি কোটি টাকা দিয়ে এই ধর্ষক ছাত্রলীগদের পোষছে। কারন তাদের তো ক্ষমতায় টিকে থাকেত হবে।

আমাদের পাঠ্যপুস্তকে বা নাটক-সিনেমায় ধর্ষকের যে চেহারা-সুরত এতকাল যাবত  তুলে ধরা হয়েছে, বাস্তবের ধর্ষকদের সাথে তাদের মিল খুবই কম। এটিও ধর্ষকদের জন্যে বিশেষ সুযোগ সৃষ্টি করেছে। তারা সরকারী দলের খোলস গায়ে লাগিয়ে দেশে এই অপকর্ম করছে। করবেই না কেন দল তাদের এমন ক্ষমতা দিয়েছে যে, এখানে খায় একজন, বিল উঠে অন্য আরেক জনের নামে।

গণ নৈতিকতার ভিতটিকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে এই আওয়ামী লীগ। চরিত্রগতভাবে এরা আসলে ভোগবাদী। জীবনের সকল কাজে জবাবদিহিতার থাকলে তাদের কাজের কোন জবাবদিহিতা নেই আর সেই কারনেই তারা তাদের দলের কর্মীদের বিনোদন হিসেবে ব্যবহার করছে দেশের নারীদের। খাও দাও ফুর্তি করার দর্শন থেকেই মূলত:  ধর্ষণ কালচারের  উৎপত্তি করছে ছাত্রলীগ।

আওয়ামী লীগ যতবার ক্ষমতায় এসেছে ততবারই এ দেশের নারী সমাজ আর অর্থনীতি- উভয়েই  চরম সংকটে পড়েছে। আওয়ামী শাসনে সংকটে পড়াদের মধ্যে এরকম অনেক কিছুই আছে। তবে আওয়ামীলীগের হাতে কেন যেন বেশি কাহিল হয় এই দুই অবলা। যাই হোক, এক অবলার জন্যে দারুণ পরামর্শ দিয়েছেন প্রাক্তন আওয়ামী লীগ নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না। মা-বোনদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেছেন, কোথায়ও যাওয়ার আগে খোঁজ নেন সেখানে ছাত্রলীগ আছে কি না। শুধু আওয়ামী বিদ্বেষীদের চোখেই বিষয়টি ধরা পড়ছে, এমন নয়। আওয়ামী প্রেমিক বলে বিবেচিতরাও মুখ খোলা শুরু  করেছে। মহাজোটের সঙ্গী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, “ করোনা, ধর্ষণ, দুর্নীতি আর লুটপাটে বিপর্যস্ত দেশ।

ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের কর্মীদের দ্বারা বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ ক্যাম্পাসে ধর্ষণ বা দলগত ধর্ষণের ঘটনা গত তিন দশক ধরেই ঘটছে। বর্তমান সরকার এতটাই বেপরোয়া থাকে যে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হতে পাওে এমনটি তারা মনে করে না। তাইতো তারা স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের দুঃসাহস দেখায়। গত দশবছর ধরে ছাত্রলীগ যা করছে নারীদের সাথে তাতে তাদের ছাত্রলীগ না বলে ধর্ষনলীগ বলাই শ্রেয়।

এই ছাত্রলীগই ১৯৯৮ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন মানিক ধর্ষণের সেঞ্চুরি উদ্যাপন করে সারা দেশে সমালোচনার ঝড় তুলেছিলেন।

এবার আসুন আমরা দেখি এই বছর ছাত্রলীগ ধর্ষনের কি কি মহড়া দিয়েছে,  গত ১০ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সেলিমের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের অভিযোগ দায়ের করেন এক নারী। ৬ সেপ্টেম্বর রংপুরে একজন প্রভাবশালী ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন এক শিক্ষিকা। ৪ সেপ্টেম্বর ভোলার মনপুরা থানায় মনপুরা সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিব হাসানের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণের মামলা দায়ের হয়।

৩ সেপ্টেম্বর ভোলা সদর মডেল থানায় ভেদুরিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি মামুন হাওলাদারের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন এক তরুণী।

গত ২০ আগস্ট এক স্কুলছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘ চার বছর ধরে ধর্ষণের অভিযোগে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ মেহেদী হাসান নাইচের বিরুদ্ধে কলারোয়া থানায় একটি মামলা দায়ের হয়। এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি বরিশালের বিমানবন্দর থানায় জেলা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক বনি আমিনের বিরুদ্ধে নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকা থেকে এক কলেজছাত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়।

গত ৬ জানুয়ারি সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পরিচয়ে ফেসবুকের মাধ্যমে সম্পর্ক গড়ে বিয়ের নাটক সাজিয়ে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আকিবুল ইসলাম আকিবের বিরুদ্ধে বাকলিয়া থানায় মামলা হয়।

গত বছরের ৮ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শরিফুর রহমান পারভেজের বিরুদ্ধে স্থানীয় যুব মহিলা লীগের এক নেত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের হয়। ওই বছরের ২৯ আগস্ট পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নিরব হোসাইনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তোলে অন্তঃসত্ত্বা এক স্কুলছাত্রী। ১৮ আগস্ট মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার দরগ্রাম ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয় এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে।

২০১৮ সালের ৮ নভেম্বর গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা ছাত্রলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাহিম আহাম্মেদের বিরুদ্ধে জয়দেবপুর থানায় ধর্ষণের মামলা দায়ের হয়।

এমনকি নিজ সংগঠনের নেত্রীদেরও ধর্ষণের অভিযোগ আছে ছাত্রলীগের নেতাদের বিরুদ্ধে। ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর সিরাজগঞ্জের বেলকুচি থানার একটি স্কুল শাখার নেত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি রিয়াদ হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। এর আগে মিরপুর বাঙলা কলেজের প্রভাবশালী এক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে সংগঠনের এক নেত্রীকে বিয়ের আশ্বাসে ধর্ষণ করার অভিযোগ ওঠে। পরে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে বিচার চেয়ে না পেয়ে আত্মহত্যা করেন ওই নেত্রী।

একটি দেশে সরকার নারী। কিন্তু প্রতিনিয়ত নারীরা ধর্ষনের শিকার হচ্ছেন। তারপরও ক্ষমতায় থাকার জন্য কিছু বলছে না। যারা প্রতিবাদ করছে, তাদের বোনদের ক্ষমতার জোরে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। এই ধর্ষনলীগের হাত থেকে কি বাংলাদেশকে বাচানো সম্ভব হবে।

আওয়ামীলীগের দূর্নীতির অর্থ পাচার হচ্ছে

মশিউল হুসাইন খান/ যুক্তরাজ্য

টাকা তিনবার ক্ষমতায় আওয়ামীলীগ। ভোট চুরি করে তারা তাদের পছন্দের  মানুষকে বিভিন্ন এলাকার দায়িত্ব দিয়েছে। তাছাড়া সাধারন মানুষকে শোষণ করে প্রতিনিয়ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে এই সরকার। আর এ কারনে বাংলাদেশ থেকে বিগত কয়েক বছর ধরে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। খোজ নিলে জানা যায়, দেশ থেকে বছরে অন্তত ৭০ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সরকার কখনো পুঁজি পাচারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি। করবে কিভাবে সরকার তো জানে এই সব তাদের দলের লোকজনই করছে। আর যারা পাচার করছে, তারা নিজেরা নিচ্ছে সাথে হাসিনাকে একটি বড় অংশ দিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া তার অন্য নেতারাও এর সহযোগী হিসেবে কাজ করছে বলে জানা যায়।

দেশের আর্থিক খাতগুলোতে খোজ নিলেই দেখা যায়, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে ফেরত না দেয়া, দুর্নীতি ও অপরাধের মাধ্যমে বিপুল অর্থ হস্তগত করা এবং শেয়ারবাজারসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের টাকা মেরে দেয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশে সম্প্রতি অনেকেইে আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছে।

বিগত ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে গত ১০ বছরে কয়েক হাজার লোক এসব উপায় অবলম্বন করে শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছে। এদের মধ্যে অনেকে বিদেশে এসব টাকা পাচার করে নিজেও সটকে পড়েছেন দেশ থেকে। তবে বড় অংশটি দেশেই থাকছেন এবং লুটপাট অব্যাহত রেখেছে। তবে বিদেশে গড়ে তুলেছেন অর্থের পাহাড়।

কারন তারাও মনে করেন, যদি এই জামিল সরকারের যখন পতন হবে, তখন জনগন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে জবাব দিহিতো করতেই হবে। আর এই ভয়েই এই সব আওয়ামীলীগ নেতারা অর্থ বিদেশে পাচার করছেন।

১৯৯৬ ও ২০১০ সালের শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির মূল হোতা হিসেবেই সবাই তাকে চেনে। যার নাম সালমান এফ রহমান। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা এবং বেসরকারি আইএফআইসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান। দেশের শীর্ষ শিল্প গ্রুপ বেক্সিমকোর মালিক হলেও ব্যবসা বাণিজ্য নয়, বরং সরকারি ও ব্যাংকের অর্থ লোপাটের মাধ্যমেই বিলিয়নিয়ার হয়েছেন সালমান। গবেষণা সংস্থা হুরুন গ্লোবালের ২০১৭ সালের তথ্য অনুযায়ী বিশ্বের শীর্ষ দুই হাজার ধনী ব্যক্তির মধ্যে তার অবস্থান ১৬৮৫তম এবং একইসঙ্গে বাংলাদেশের শীর্ষ ধনীও তিনি। কেবল দুই দফায় শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি থেকেই অন্তত ২০ হাজার কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বর্তমানে চলমান ব্যাংক খাতের লুটপাটেও তিনি জড়িত বলে মনে করা হয়। আর তার লুটপাতের সঙ্গি হাসিনার বোন রেহানা। আর এই রেহানাকে ব্যবহার করে দিনের পর দিন অর্থ পাচার করছে তিনি। এই সব অর্থ রাখা হচ্ছে সুইচ ব্যাংকে।

প্রতিষ্ঠান সামিট গ্রুপের মালিক আজিজ খান । তার ভাই অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা ফারুক খান আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম কমিটির সদস্য। সরকারের বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন ফারুক খান। দুই ভাই নানান উপায়ে জালিয়াতি করে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করার। শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারিতে সামিট গ্রুপের কোম্পানি কেপিসিএল, ওসিএলের মাধ্যমে দেড় হাজার কোটি টাকা লুট করা হয়। বিদেশে অর্থ ও সম্পদ বিনিয়োগের জেরে বিখ্যাত পানামা পেপার্সেও নাম এসেছিল তাদের। ২০১৮ সালে সিঙ্গাপুর সরকারের বরাতে জানা যায় সে দেশের শীর্ষ ৫০ ধনীর মধ্যে আজিজ খান রয়েছেন ৩৪ নম্বরে। সেখানে তার সম্পদের পরিমাণ তখন ছিল প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু এতো অর্থ পাচার করা হলেও হাসিনার গায়ে গায়ে থাকে আজিজ খান ও ফারুক খান।

সাইফুল আলম মাসুদ  যিনি কিনা এস আলম গ্রুপের মালিক তিনি। ১০ বছর ধরে সরকারের আনুকূল্য ভোগ করা আরেক শীর্ষ লুটেরা। গত বছর প্রতিষ্ঠানটিার ৩ হাজার ১৭০ কোটি টাকার কর মওকুফ করেছে সরকার। কিন্তু তাদের ঐতিহ্য মূলত লুটপাট ও পুঁজি পাচারের। সিঙ্গাপুরে নানা ধরনের ব্যবসা ও বাণিজ্যিক ভবন ক্রয়ের নিমিত্তে প্রতিষ্ঠানটি দেশ থেকে পাচার করেছে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা। ২০১৩ সালে এস আলম গ্রুপের নামে দুদক ব্যাংকিং খাত থেকে ১৭ হাজার কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ আনে। কিন্তু পরে আর এ নিয়ে কোনো মামলা এগোয়নি। কারন হাসিনাকে টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ করেছেন এই এস আলম গ্রুপের সাইফুল আলম মাসুদ।

আওয়ামীলিগের আর এক ঘনিষ্ঠ ক্রিসেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএ কাদেরসহ তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে এ ছাড়াও জনতা ব্যাংকের ৪ হাজার ৮৮৯ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ফেরত না দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। ভুয়া রপ্তানিসহ নানা প্রতারণার মাধ্যমে ব্যাংক থেকে এ অর্থ নিয়েছেন তারা। ব্যাংক থেকে নেয়া অর্থের বড় অংশই বিভিন্ন দেশে পাচার করেছেন ক্রিসেন্ট গ্রুপের কর্ণধাররা। তবে মাত্র ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা আত্মসাত ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা চালাচ্ছে দুদক। তবে খোজ নিলে জানা যাবে কয়েকশ হাজার কোটি টাকা রপ্তানীর নামে পাচার করেছে তারা।

ল৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে তা আত্মসাতের পর বিদেশে পাচার করা বিল্ডট্রেড গ্রুপ ও চ্যানেল নাইনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনায়েতুর রহমান কিন্তু সব সময় শুরুতে আওয়ামীলীগের গুনগান গাইতো তার চ্যানেলে। কেবল এবি ব্যাংক থেকেই ২ হাজার কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন তিনি। ব্যবসা ও মিডিয়া জগতের রহস্যময় নাম এনায়েতুর রহমান বাপ্পী। এ প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ হিসেবে নেয়া অর্থের একটি বড় অংম এনায়েতুর রহমান সিঙ্গাপুরে পাচার করেছেন। দেশে থাকা তার অন্যান্য সম্পদও সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাচ্ছেন। পুঁজি পাচারের অংশ হিসেবেই তিনি পুরো পরিবার সিঙ্গাপুর নিয়ে গেছেন। কিন্তু তাকে বাধা দেয়ার চেষ্টা করছে না কেউ। শোনা যায়, হাসিনার ছেলে জয়ের সাথে রেয়েছে এনায়েতুর রহমানের ভালো সম্পর্ক।

বিসমিল্লাহ গ্রুপের মালিক খাজা সোলেমান ২০১৩ সালে জনতাসহ কয়েকটি ব্যাংক থেকে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা তুলে নিয়ে তা বিদেশে পাচার করেন এবং পরিবারসমেত বিদেশ পাড়ি দেন। পাচারকৃত ওই অর্থ দিয়ে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমীরাতের রাজধানী দুবাইয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন তারা। তবে এর বাইরে অনেক ব্যবসায়ী পরিবারের অর্থও হাতিয়ে নিয়েছেন তারা। এই অর্থের পরিমাণ এখনো শনাক্ত হয়নি। খাতুন বাজারের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সব মিলিয়ে তাদের বাজারে অন্তত তিন হাজার কোটি টাকার দায় আছে। এসব অর্থের একাংশ লন্ডন ও কানাডায় পাচার করা হয়েছে। আর তার সাথে আওয়ামীলীগ নেতা কাদেরের রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। খাজা সোলেমান একসময় ওবায়েদুর কাদেরের মেয়ে সাপ্লাই দিতো।

পদত্যাগে বাধ্য করার কৌশল হিসেবে ডি জি এফ আই অপহরণ করলো প্রধান বিচার পতি এস কে সিনহার বন্ধু অনিরুদ্ধ রায় কে

মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম, যুক্তরাজ্য থেকে

পারিবারিক বন্ধু অনিরুদ্ধ রায়কে ডি জি এফ আই অপহরণ করেছে সরকারের সাথে প্রধান বিচার পতি এস কে সিনহার বিরোধের কারণে। অনিরুদ্ধ রায় বাংলাদেশে বেলারুশ প্রজাতন্ত্রের অনারারি কনসাল এবং একই সাথে তিনি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আর এম এম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। সরকারের সর্বোচ্চ কতৃপক্ষের নির্দেশে এই অপহরন। জানা গেছে, প্রধান বিচারপতিকে ফাঁসাতে তার নামে দুর্নীতি, টাকা পাচারের গল্প ও দলিল তৈরী করতেই অনিরুদ্ধকে অপহরন। খুব সহসাই সেগুলো তৈরী করে প্যদান বিচারপতিকে ব্লাকমেল করার চেষ্টা করা হবে। তবে সিনহা বাবু যেভাবে ক্ষেপে আছেন এবং তিনি যে কঠের প্রকৃতির মানুষ, তাতে কতটা কাজ দিবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে একজন কূটনীীতককে এভাবে অপহরনের শিকার হওয়ায় কূটনৈতিক পাড়ায় তোলপাড় পড়ে গেছে।

গত রবিবার বিকেলে অনিরুদ্ধ কুমার রায়কে গুলশান থেকে অপহরন করার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও তার কোন সন্ধান দিতে পারেনি পুলিশ। অনিরুদ্ধ রায়ের ভাগ্নে কল্লোল রায় ওই ঘটনায় গুলশান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। পরিবারের একটি সূত্র জানায়, রোববার বিকালে গুলশান-১-এ নিজের গাড়িতে ওঠার সময় ৭-৮ জন লোক এসে নিজেদের একটি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য পরিচয় দিয়ে অনিরুদ্ধ কুমার রায়কে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়।

গুলশান থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক জানান, বিকাল ৪টার দিকে গুলশান-১ থেকে অনিরুদ্ধ কুমার রায় নিখোঁজ হয়েছেন বলে জিডিতে বলা হয়েছে। আমরা এখন পর্যন্ত তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারিনি। তবে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ব্যবসায়ী অনিরুদ্ধ রায়কে ৭২ গুলশান এভিনিউতে ইউনিয়ন ব্যাংকের সামনে থেকে ২৭ আগস্ট ধরে নেওয়া হয়। ইউনিয়ন ব্যাংকের কার্যালয় থেকে ৯০ মিটার দূরেই গুলশান ১ নম্বর গোলচত্বর। গুলশান-১-এ সিগন্যাল পড়লেই এই রাস্তার গাড়ির সারি ব্যাংকের সামনে পর্যন্ত চলে আসে। ব্যাংকের সামনে দাঁড়ানো নিরাপত্তাকর্মী ফকরুল বলেন, তিনি দেখেননি তবে শুনেছেন এখান থেকে এক সাহেবকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এদিকে পুলিশের একটি সূত্র বলছে, ব্যবসায়িক বিরোধের জের ধরে তাঁকে অপহরণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকারদলীয় একজন সাংসদের সঙ্গে অংশীদারের ভিত্তিতে তাঁর ব্যবসা ছিল। সম্প্রতি সেই ব্যবসা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে ব্যবসার অংশীদারত্ব ভেঙে যায়। তদন্তে বিষয়টিকে সামনে আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এ ঘটনারও সিসি ক্যামেরার ফুটেজ রয়েছে। তবে কোনো পেশাদার অপরাধী চক্র তাঁকে ধরে নিয়ে যায়নি বলেই মনে করছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। অপহরণের ধরন-ধারণ দেখে তাঁদের মনে হয়েছে, বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লোকদেরই এ ক্ষেত্রে কাজে লাগানো হয়েছে। আর অপহরণকারীরা অপহরণের সময় নিজেদের একটি বিশেষ সংস্থার সদস্য হিসেবেও দাবি করেছিলেন।

জানতে চাইলে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ব্যবসায়িক ঝামেলার একটা ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এ ঘটনায় দায়ের করা সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি) উল্লেখ করা হয়েছে, বিকেল ৪টা ১৯ মিনিটে তিনি ইউনিয়ন ব্যাংক থেকে বের হওয়ার সময় গুলশান-১-এ দাঁড়িয়ে থাকা রুপালি রঙের একটি মাইক্রোবাসে থাকা তিনজন লোক তাকে তুলে নেন। অনিরুদ্ধর গাড়িচালক শাহ আলমসহ অন্যরা পুরো বিষয়টি দেখেছেন এবং ইউনিয়ন ব্যাংকের সিসি টিভি ক্যামেরায় এই ফুটেজ ধরা পড়েছে।

স্বাস্বতি রায়, অনিরুদ্ধ রায়ের সহধর্মিণী, এই ব্যাপারে বিস্তারিত কোন কিছু বলতে আগ্রহ দেখান নি। তবে তিনি উল্লেখ করেন, অনিরুদ্ধ রায় সেই সময়ে ব্যাংক এ গিয়েছিলেন একটি ঋণ অনুমোদনের ব্যাপারে কথা বলতে। স্বাস্বতি কাঁদতে শুরু করেন যখন টাকে প্রশ্ন করা হয় যে, এই ব্যাপারে কাউকে সন্দেহ করেন কি না? তিনি শুধু বলতে থাকেন, “আমি কোন কিছু বিস্তারিত প্রকাশ করতে চাই না। আমরা যে ভয়াবহ অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি তা শুধু আমরাই জানি। আপনাদের সহ পুলিশ প্রশাসনের কাছে আমার একটাই অনুরোধ আপনারা অনিরুদ্ধ কে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিন”।

শেখ হাসিনা এবার তাঁর গুণ্ডা বাহিনী যুবলীগকে লেলিয়ে দিল নিরীহ শিক্ষার্থীদের উপর

মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম, যুক্তরাজ্য থেকে

যাত্রাবাড়ীতে নিরাপদ সড়ক চাই এর দাবিতে যেসব শিক্ষার্থী আন্দোলন করেছে তাদের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।উপস্তিত জনগণের মতে, স্থানীয় যুবলীগের নেতাকর্মীরা এই হামলায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে। সূত্রমতে, ওইদিন যাত্রাবাড়ী মোড়ে ২০ থেকে ৩০ জন শিক্ষার্থী যানবাহনের লাইসেন্স পরীক্ষা করছিল।অকস্মাৎ ৫০ থেকে ৬০ জনের যুবলীগের ক্যাডার বাহিনী শিক্ষার্থী দের উপর আক্রমণ চালায়।

হামলার শিকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা কোনো গাড়ি আটকাচ্ছি না। শুধু তাদের লাইসেন্স আছে কিনা তা দেখছিলাম। এ সময় ‘ধর ধর’ করে আমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাদের এতগুলো মানুষের সঙ্গে আমরা পারবো না। এজন্য চলে যাচ্ছি।

যাত্রাবাড়ি থানার ওসি ওয়াজেদ আলী সাংবাদিকদের জানান, এখানে হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হয়তো শ্রমিকদের ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। তবে কেউ অপ্রীতিকর কিছু করার চেষ্টা করলে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।

নিরাপদ সড়কসহ ৯ দফা দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে আবারও অবস্থান নিয়েছে শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা প্রতিটি পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে গাড়ির লাইসেন্স তল্লাসি করছে।শনিবার (৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তারা অবস্থান নিতে শুরু করে। তারা অন্যদিনের মতো ট্রাফিক পুলিশের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।এ সময় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একটি মাইক্রোবাস লাইসেন্স না থাকায় তারা আটকিয়ে দেয়। পরে দায়িত্বরত সার্জেন্ট মামলা দিলে তারা গাড়িটি ছেড়ে দেয়।

সলিমুল্লাহ ডিগ্রি কলেজের ছাত্র মাশরাফি আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, আমরা সড়ক নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন করবো। আজকে আমরা কেউ উল্টো পথে আসছে কি না এবং লাইসেন্স আছে কি না চেক করছি। আমরা এর মাধ্যমে দেখিয়ে দিতে চাই পরিবহনখাতে শৃঙ্খলা সম্ভব।এদিকে, বিআরটিসির বাস ছাড়া অন্য কোনো ধরনের বাস চলাচল করতে দেখা যায়নি। পর্যাপ্ত বাস না থাকায় যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে ষষ্ঠদিনের মতো বিক্ষোভ করছেন রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শনিবার (৪ আগস্ট) সকালে এ আন্দোলনের অংশ হিসেবে রাজধানীর সাইন্সল্যাব মোড়ে সকাল ১১টায় পতাকা হাতে মানববন্ধন ও মিছিল করে তারা। পরে সেখানে অবস্থান নিয়ে নিরাপদ সড়কের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। সকালে শিক্ষার্থীদের প্রথম মিছিলটি আসে নিউমার্কেট এলাকা থেকে। এর কিছুক্ষণ পরেই ধানমন্ডি থেকে আসে দ্বিতীয় মিছিল। পরে দুইদলের শিক্ষার্থীরাই অবস্থান নেন সাইন্সল্যাব মোড়ে।

রাস্তায় অবস্থানকালে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন যানবাহন আটকে গাড়ির কাগজপত্র এবং চালকদের লাইসেন্স পরীক্ষা করেন। তবে বরাবরের মতো তারা সহযোগিতা করেছেন অ্যাম্বুলেন্স ও রোগী বহনকারী যানবাহনকে।

ঢাকা সিটি কলেজের শিক্ষার্থী তাহমিনা আনাম বলেন, নিরাপদ সড়ক কোনো অযৌক্তিক দাবি নয়। তাই সরকার যতক্ষণ এ প্রসঙ্গে কোনো কার্যকর না নেবে, ততক্ষণ আমাদের আন্দোলন চলবে। গত ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে দুই বাসের রেষারেষিতে একটির চাপা পড়ে দুই কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনার পর বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় গত ক’দিন ধরে ‘ভাঙচুরে’র কথা বলে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন মালিক-শ্রমিকরা। গত বৃহস্পতিবার (০২ আগস্ট) সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নিয়ে তাদের ঘরে ফেরার আহ্বান জানানো হয়। প্রথমে দুয়েকটি চললেও শুক্রবার (৩ আগস্ট) থেকে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয় বাস চলাচল।

‘নিরাপদ সড়ক চাই’- এই আন্দোলনের অনশ হিসাবে মিরপুর এলাকার বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থী রা। আজ সকালেও বিগত কয়েকদিনের মতো তারা সড়কে সুশৃঙ্খল যানবাহন চলাচল নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়েছে। তারা লাইসেন্স চেক করার পাশাপাশি এক লেন এ যানবাহন চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করে। অন্যদিকে, আরেকদল শিক্ষার্থী মিরপুর ১০ নাম্বার থেকে সকাল ১০টার দিকে একটি শান্তিপূর্ণ মিছিল বের করে। পূর্বের মতই তা শান্তিপূর্ণভাবে মিরপুর ১ নাম্বারে গিয়ে শেষ হয়।