কিশোরগঞ্জে পিকআপচাপায় প্রাণ গেল কিশোরের

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় পিকআপভ্যানচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী এক কিশোর নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন।

শুক্রবার দিনগত রাত ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক সড়কে জালুয়াপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত কিশোরের নাম শুভ (১৭)। সে উপজেলার বিশুআটি এলাকার আব্দুল আজিজের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত ১১টার দিকে শুভসহ দুজন মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন।পথে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক সড়কে সদর উপজেলার জালুয়াপাড়া এলাকায় তাদের মোটরসাইকেলটিকে একটি পিকআপভ্যান চাপা দেয়।

এতে ঘটনাস্থলেই শুভ মারা যায়। এসময় আহত হয় আরও একজন। তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিহত কিশোরের মরদেহ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ওসি মো. আবু বকর সিদ্দিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

উৎসবমুখর পরিবেশে বাঞ্ছারামপুরে ছয়ফুল্লাকান্দি কল্যাণ সমিতির সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার “ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়ন কল্যাণ সমিতির” সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকালে মরহুম আনোয়ার ইসলাম চেয়ারম্যান অডিটোরিয়ামে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়ন কল্যান সমিতির সভাপতি, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম তুষারের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, দুর্যোগ ব্যাবস্থপনা ও ত্রাণ মন্ত্রানালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থাস্থী কমিটির সভাপতি ক্যাপ্টেন এবি তাজুল ইসলাম এমপি। সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন শাহ রাহাত আলী মহা বিদ্যালয়ের প্রভাষক মোহাম্মদ সমীর আহাম্মেদ।

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাদিদ আল রহমান জনি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের সদস্য আব্দুল হক, জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সনি আক্তার সুচি, জনপ্রসাশন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ বাবুল মিয়া, নরসিংদী জেলার সহকারি জজ শেখ সাদী, ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মহিউদ্দিন চৌধুরী ফুল মিয়া, সহসভাপতি হুমায়ুন কবির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর করিম মাস্টার, সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম নয়ন মাষ্টার, প্রচার সম্পাদক কাদির চৌধুরী, বাঞ্ছারামপুর প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মহরম আলী মাষ্টার, অর্থ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ইমতিয়াজ আহাম্মেদ, ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি জাকির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শাহ জালাল সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক পরান, যুবলীগ নেতা ইমরান এলাহী রাজিব, ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মোজাম্মেল হক চৌধুরী, সিনিয়র সহসভাপতি রূহুল আমিন বায়েজিদ, সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব আহাম্মেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক হোসাইন সুইলেন, সজিব পারভেজ।

সাধারণ সভায় ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়ন কল্যাণ সমিতির আগামী দুই বছরের জন্য নতুন কমিটি ঘোষনা করা হয়। পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হলেন মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম তুষার চেয়ারম্যান। সাধারণ সম্পাদক হলেন শিক্ষানুরাগী মোহাম্মদ সমীর আহাম্মেদ। অর্থ সম্পাদক হলেন দবির ভুইয়া। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার শত শত মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মাথাপিছু ব্যয় সরকারিতে দেড় লাখ, বেসরকারি অর্ধেক

দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় শিক্ষার্থীপ্রতি ব্যয় মাত্র দেড় লাখ টাকা। আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এর অর্ধেকেরও কম। উভয় ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বার্ষিক ব্যয় বাজেটের সঙ্গে শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনা করে এই মাথাপিছু ব্যয় ধরা হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আয়ের সঙ্গে মিল রেখে শিক্ষার্থীদের পেছনে ব্যয় করছে না। আয়ের সামান্য অংশ শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনে ব্যয় করায় মাথাপিছু খরচ কমে গেছে। এতে বেশিরভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের একজন শিক্ষার্থীর পেছনে যে ব্যয় হয়, তা দুটি খাত থেকে জোগান দেওয়া হয়। এর একটি নানা ধরনের ফি-র নামে শিক্ষার্থী পরিশোধ করে। অপরটি আসে সরকারি বরাদ্দ থেকে।

এ ছাড়া কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বৈদেশিক উৎস থেকেও তহবিল পেয়ে থাকে। মূলত দুই খাতে আয়ের টাকার ওপর ভিত্তি করে চাহিদার নিরিখে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ব্যয়-বাজেট তৈরি করে। যেটা থেকে মাথাপিছু ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু এর বাইরে শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত অন্যান্য খরচ আছে। মাথাপিছু ব্যয়ের হিসাবে শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত খরচ অন্তর্ভুক্ত হয়নি। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে প্রকৃত অর্থে উভয় ধরনের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর পেছনে মাথাপিছু ব্যয় আরও বেশি।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা শিক্ষা বিশ্লেষক রাশেদা কে চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত শিক্ষকের জোগান বলি, আর সার্বিকভাবে দেশের জনপ্রশাসনসহ সব খাতের নেতৃত্ব বা দক্ষ জনবল সরবরাহের কথাই বলি, তা তৈরির দায়িত্ব উচ্চশিক্ষার। সে কারণে উচ্চশিক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যে মাথাপিছু ব্যয়ের চিত্র বেরিয়ে এসেছে, সেটা প্রত্যাশিত পর্যায়ের নয়। কেননা, আমরা টেকসই উন্নয়নের কথা বলছি, সেটায় একটি বড় অংশ দখল করে আছে উচ্চশিক্ষা। আজ অনেক চাকরিরই প্রতিযোগিতা হয়ে থাকে বৈশ্বিকভাবে। সেখানে আমাদের জনবলকে টিকে থাকতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা নিশ্চিতের বিকল্প নেই।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, এর অধিভুক্ত কলেজ, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় ও এর অধীভুক্ত মাদ্রাসা বাদে ৪৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৯ সালে শিক্ষার্থীদের মাথাপিছু ব্যয় এক লাখ ৪৯ হাজার ৯৪২ টাকা।

একই বছর ৯৪টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীপ্রতি বার্ষিক ব্যয় ৭১ হাজার ৫৩৬ টাকা। অন্যদিকে আলোচ্য বছরে এই ১৩৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রী ছিল ৪৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৫১ জন। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর যদি বছরে গড়ে ৩৬ হাজার টাকা ব্যক্তিগত ব্যয় থাকে, তবে দেশে শিক্ষার্থীর মাথাপিছু ব্যয় দাঁড়াচ্ছে এক লাখ ৪৭ হাজার টাকা।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যে অর্থ আদায় হয় তার পুরোটা তাদের পেছনে ব্যয় হয় না। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাথাপিছু ব্যয় নির্ধারণে শিক্ষকের বেতন ও গবেষণাসহ ৯টি খাতের খরচ ধরা হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, বেশকিছু বিশ্ববিদ্যালয় প্রচুর অর্থ আয় করলেও ব্যয় করেছে খুব কম। কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতা ও শিক্ষার অন্য খাতে ব্যয় করেছে সামান্য।

কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর প্রতি মাত্র চার হাজার টাকাও ব্যয় করেছে। এমন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আছে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি, নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি ইত্যাদি। আবার ইস্টওয়েস্টের মতো বড় এবং ভালো ইউনিভার্সিটি মাথাপিছু ব্যয়ের তথ্যই দেয়নি। বেসরকারি খাতে মাথাপিছু বেশি ব্যয় করা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে নর্থসাউথ একটি। তারা শিক্ষার্থীপ্রতি এক লাখ ৪৫ হাজার টাকা ব্যয় করে।

এভাবে ঢাকার ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি এক লাখ ৭০ হাজার, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ এক লাখ ৮৪ হাজার, ব্র্যাক এক লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয় করে। নতুনগুলোর মধ্যে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্ট বাংলাদেশ (ইউল্যাব) এক লাখ ৫৩ হাজার, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এক লাখ ৭২ হাজার টাকা খরচ করে। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ৫০ হাজার থেকে সোয়া লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় আছে।

প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বছর ভিত্তিতে মাথাপিছু ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। এই হিসাবে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে প্রতি শিক্ষার্থীর পেছনে খরচ করা হয় তিন লাখ ৬৪ হাজার ৪৮৫ টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে তিন লাখ ৫৫ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে।

তৃতীয় অবস্থানে আছে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে দুই লাখ ৯১ হাজার ১৩৬ টাকা। ৪ ও ৫ নম্বরেও আছে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। এগুলো হচ্ছে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকার শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। যথাক্রমে দুই লাখ ৩৫ হাজার এবং দুই লাখ ২৬ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে উভয় বিশ্ববিদ্যালয়েপ্রতি শিক্ষার্থীর পেছনে।

৭, ৮ ও ৯ নম্বরে যথাক্রমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। তিনটিতেই সাধারণ, প্রকৌশল এবং কৃষিবিষয়ক শিক্ষা ও গবেষণা চলে। আর বরাদ্দে দশম স্থানে আছে বুয়েট। এই চারটিতে মাথাপিছু ব্যয় যথাক্রমে দুই লাখ ১০ হাজার, দুই লাখ আট হাজার ৫১১ টাকা, এক লাখ ৮২ হাজার এবং এক লাখ ৭৭ হাজার ৭৭৫ টাকা। সবচেয়ে কম ব্যয় হচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে। এর পরিমাণ মাথাপিছু ৩৮৯ টাকা।

রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, উচ্চশিক্ষা হচ্ছে সার্বিকভাবে দেশ এগিয়ে নেওয়ার হাতিয়ার। গবেষণায় ব্যয় করলে কী ফেরত পাওয়া যায় তার প্রমাণ কৃষি খাত। লবণ, তাপ, খরা, ঝড় সব ধরনের দুর্যোগসহিষ্ণু ধান আমরা পেয়েছি শুধু গবেষণার কারণেই। বিলুপ্ত প্রায় বিভিন্ন ধরনের মাছ ফের আমাদের খাবারের প্লেটে এসেছে গবেষণার বদৌলতে। সুতরাং আমি মনে করি, কৃষির পাশাপাশি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও প্রকৌশল এবং কলা ও সামাজিক বিজ্ঞানসহ উচ্চশিক্ষার সব ডিসিপ্লিনে বরাদ্দ বাড়ানো দরকার। পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আয়ের তুলনায় যে ব্যয় কম করছে, সেটিও দেখা দরকার ইউজিসির। কেননা, আইনে এসব বিশ্ববিদ্যালয় অলাভজনক। সুতরাং আয়ের অর্থ শিক্ষার পেছনে ব্যয় করাই যুক্তিযুক্ত। অথবা ব্যয় ধরে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ফি নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

লক্ষ্য যেন হয় মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা

জনগণকে দেওয়া ওয়াদা পূরণে কাজ করতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমি আপনাদের কাছে এটাই চাইব-জনপ্রতিনিধি হিসাবে জনগণের কাছে আপনারা যে ওয়াদা দিয়ে এসেছেন, আর আজকে যে শপথ নিলেন সেটা মাথায় রেখেই মানুষের জন্য কাজ করবেন। জনপ্রতিনিধি হিসাবে দেশের মানুষের কল্যাণ করা, মানুষের জন্য কাজ করা, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা; এটাই যেন লক্ষ্য হয়।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চসিক মেয়র এম রেজাউল করিমসহ কাউন্সিলরদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি আরও বলেন, আপনারা জানেন যে, বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য অনেক কর্মসূচি হাতে নিয়েছি, বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। সারা দেশেই কিন্তু আমরা এই উন্নয়নের কাজ করে যাচ্ছি। আমরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, দেশের কল্যাণে কাজ করতে চাইলে, করা যায়। এখানে জনগণের সমর্থনটা হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহর রহমতে জনগণের সেই সমর্থনটা আমরা পাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে আমি আজ আরও অতিরিক্ত ৫০ হাজার ঘর নির্মাণের জন্য এক হাজার কোটি টাকা ছাড় করেছি। আমরা আরও এক লাখ ঘর তৈরি করে দিচ্ছি। আমরা সার্ভে করে দেখেছি। একটি লোক যেন গৃহহীন না থাকে। যার যার গ্রামে বাড়ি, সেখানে দেখবেন কোনো মানুষ গৃহহীন আছে কিনা? সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ নেবেন। আমরা ঘর করে দেব। একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।

করোনাভাইরাসের টিকা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা শুধু টিকা আনতে পেরেছি তাই-ই নয়, আমরা এখন টিকা প্রযোগের কাজও শুরু করেছি। এক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিদের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে স্ব স্ব এলাকার মানুষ যেন এই টিকাটা নিতে পারে সেই ব্যবস্থা করা এবং তাদের উদ্বুদ্ধ করা ও নাম নিবন্ধন করা। তিনি আরও বলেন, করোনার টিকার জন্য নাম নিবন্ধনও আরও সহজ করে দেয়া হয়েছে। এখন প্রতিটি ডিজিটাল সেন্টারে নিবন্ধন করা যাবে। আইডি কার্ড নিয়ে গেলে সেটা দেখে নিবন্ধন করে দেবে ও সঙ্গে সঙ্গে টিকা নেওয়া যাবে এবং নিজেকে সুরক্ষিত রাখা যাবে।

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টায় গণভবন থেকে ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চসিকের নতুন মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীকে ভার্চুয়ালি শপথ পাঠ করান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে শপথ নেন সংরক্ষিত আসনের ১৪ জন এবং সাধারণ আসনের ৪০ জন কাউন্সিলর। তাদের শপথ পাঠ করান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ এ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

নিজ পেশাকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসতে হবে: আইজিপি

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, ‌বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যদের যে যোগ্যতা, দক্ষতা ও মেধা রয়েছে তার স‌র্বোচ্চ ব্যবহার নি‌শ্চিত কর‌তে পার‌লে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য আরও অনেক বেশি কাজ করা সম্ভব।

সোমবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর হা‌তির‌ঝি‌লে পুলিশ প্লাজায় সদ্য স্থানান্ত‌রিত নৌপুলিশ সদর দফতরে নৌপুলিশ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বেনজীর আহমেদ বলেন, নিজ পেশাকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসতে হবে। আমা‌দের ম‌ধ্যে যা কিছু খারাপ তা থে‌কে আম‌া‌দের বে‌রি‌য়ে আস‌তে হ‌বে। গতানুগতিক তথা প্রথাগত পুলিশিং থেকে আমাদের বেরিয়ে এ‌সে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ কর‌তে হ‌বে। দেশের মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জনে বৃহত্তর পরিসরে কাজ করতে হবে। গর্বের সাথে চাকরি করতে হ‌বে, যে‌ন গর্ব নিয়ে বাড়ি যেতে পারি।

তি‌নি ব‌লেন, পু‌লি‌শিং‌ এক ধর‌নের যুদ্ধ। অপরাধ ও আইন-শৃঙ্খলা প‌রি‌স্থি‌তির সা‌থে সার্বক্ষণিক যুদ্ধ ক‌রে সমাজ ও দেশে শা‌ন্তিপূর্ণ পরি‌স্থি‌তি বজায় রাখ‌তে হয়। দে‌শের স্বা‌র্থে এ যু‌দ্ধে সব সময় সফল হওয়া জরুরি।

অনুষ্ঠানে আই‌জি‌পি বাংলাদেশ পুলিশের অপেক্ষাকৃত নতুন ইউনিট নৌপুলিশকে স্বল্প সময়ের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জনের জন্য বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। বিশেষ করে নৌপথে নিরাপত্তা বিধানের পাশাপাশি মাছ ও মাছের প্রজনন অঞ্চল রক্ষা, জলাশয়ের দূষণ কমানো, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা, অবৈধ জাল উদ্ধার, অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধ করা, নৌপু‌লি‌শের মাধ্য‌মে ৯৯৯ এর সাফল্যের কথা ইত্যাদি উল্লেখ করে তিনি নৌ পুলিশের সকল সদস্যকে সাধুবাদ জানান।

নৌ পুলিশের ডিআইজি মো. আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত আইজি (এএন্ডও) মো. মইনুর রহমান চৌধুরী, এসবি প্রধান মীর শহীদুল ইসলাম, ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত আইজি (ফাইনান্স) এস এম রুহুল আমিন, অতিরিক্ত আইজি (এইচআরএম ) মো. মাজহারুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ঝিনাইদহে ট্রাক-ভ্যান সংঘর্ষে নিহত ৬

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় ট্রাক ও ব্যাটারিচালিত ভ্যানের (করিমন) সংঘর্ষে ছয়জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অপর চারজন। আজ বুধবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে উপজেলার মদনডাঙ্গা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় জানা যায়নি। তবে নিহত ব্যক্তিরা নির্মাণ শ্রমিক ও ভ্যানের যাত্রী ছিলেন।

দুর্ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে ছয়জন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঝিনাইদহের সহকারী পুলিশ সুপার (শৈলকুপা সার্কেল) আরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, সিমেন্টবোঝাই ট্রাকটি যশোর থেকে কুষ্টিয়ার দিকে যাচ্ছিল। মদনডাঙ্গা এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা ভ্যানের সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এতে ছয়জন নিহত হয়েছেন।

আবরার হত্যা মামলা: তদন্ত কর্মকর্তার মা অসুস্থ থাকায় সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক কবির হোসেনের মা অসুস্থ থাকায় সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৯ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত।

সোমবার (১১ জানুয়ারি) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামানের আদালত এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের বেন্সসহকারী শামসুদ্দিন আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ মামলায় মোট ৬০ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। এর আগে ৬ অক্টোবর বাদী আবরারের বাবা বরকত উল্লাহর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শুরু হয়।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। এর আগে, এ বছরের জানুয়ারিতে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বিচারের জন্য মামলাটি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলির আদেশ দেন। এরপর মহানগর দায়রা জজ আদালত মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এ পাঠানোর আদেশ দেন।

২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওয়াহিদুজ্জামান ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

অভিযোগপত্রের ২৫ জনের মধ্যে এজাহারভুক্ত ১৯ জন এবং এর বাইরে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আরও ৬ জনের জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। এজাহারভুক্ত ১৯ জনের মধ্যে ১৭ জন এবং এজাহারের বাইরে থাকা ৬ জনের মধ্যে ৫ জনসহ মোট ২২ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতক রয়েছেন ৩ জন। অভিযোগপত্রে ৬০ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে এবং ২১টি আলামত ও ৮টি জব্দ তালিকা আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।

এজাহারে থাকা আসামিরা হলেন— মেহেদী হাসান রাসেল, অনিক সরকার, ইফতি মোশাররফ সকাল, মেহেদী হাসান রবিন, মেফতাহুল ইসলাম জিওন, মুনতাসির আলম জেমি, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির, মুজাহিদুর রহমান, মুহতাসিম ফুয়াদ, মনিরুজ্জামান মনির, আকাশ হোসেন, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, মাজেদুল ইসলাম, শামীম বিল্লাহ, মোয়াজ আবু হুরায়রা, এএসএম নাজমুস সাদাত, মোর্শেদুজ্জামান জিসান ও এহতেশামুল রাব্বি তানিম।

এজাহারবহির্ভূত ৬ আসামি হলেন—ইশতিয়াক আহম্মেদ মুন্না, অমিত সাহা, মিজানুর রহমান ওরফে মিজান, শামসুল আরেফিন রাফাত, এসএম মাহমুদ সেতু ও মোস্তবা রাফিদ।

পলাতক তিন আসামি হলেন—মোর্শেদুজ্জামান জিসান, এহতেশামুল রাব্বি তানিম ও মোস্তবা রাফিদ। এদের মধ্যে প্রথম দুই জন এজাহারভুক্ত আসামি।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে আবরারকে তার কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে যান বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। তারা ২০১১ নম্বর কক্ষে নিয়ে গিয়ে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করে। পরে রাত তিনটার দিকে শেরে বাংলা হলের সিঁড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই বছরের ৭ অক্টোবর রাজধানীর চকবাজার থানায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পুলিশ পরে ২২ জনকে গ্রেফতার করে। এর মধ্যে আট জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এদের সবাই বুয়েট ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।

আবরার বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি শেরে বাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন।

ব্লগার এবং নাস্তিকদের বিচারের দাবিতে দেয়ালে দেয়ালে পোষ্টার এবং মিছিল।

নিজস্ব সংবাদদাতা, ঢাকা: হেফাজতে ইসলামসহ আরো কয়েকটি ইসলামী সংগঠন বেশ কিছুদিন ধরেই সরকারকে ব্লগার এবং নাস্তিকদের আইনের আওতায় এনে তাদের যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে চাপ দিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইসলামী দলগুলোকে বাংলাদেশের বিভিন্নস্থানে মিছিল এবং সমাবেশ করে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়। তাছাড়া কোনও কোনও এলাকার অলিতে-গলিতে দেয়ালে দেয়ালে নাস্তিকদের পোষ্টার লাগিয়ে হত্যা করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (অক্টোবর-২৯, ২০২০) আরিফ রব্বানী নামের হেফাজতে ইসলামের একজন সক্রিয় কর্মী ‘এথিস্ট এরা’ নামের একটি ম্যাগাজিনের সকল ব্লগার/ নাস্তিকদের নামে মামলা দায়ের করেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত খবর নিয়ে জানা যায় যে, এথিস্ট এরা নামের এই ওয়েবসাইটটি ইসলাম ধর্মকে অত্যন্ত নোংরাভাবে ফুটিয়ে তুলে একটি ম্যাগাজিন প্রকাশিত করে। মূলত যা দেখেই ইসলামী সংগঠনগুলো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে।

এ বিষয়ে মামলার বাদি আরিফ রব্বানীর সাথে কথা হলে তিনি আমাদের বলেন ’’হঠাৎ করেই ফেসবুকের মাধ্যমে এই ম্যাগাজিনটি আমার চোখে পড়ে, আমি কৌতুহল বশত এটি ডাউনলোড করে দেখতে পারি সেখানে ধর্ম, মুসলিম, কোরআন এবং আমাদের প্রাণপ্রিয় নবী মোহাম্মদ (সঃ) কে নিয়ে নানাবিদ কুরুচিপূর্ন  শব্ধ ব্যবহার করে ‘বিনাশ হোক ধর্ম‘ নামে এই মাগাজিনটি প্রকাশিত করে, যা একজন মুসলিম হিসেবে মেনে নিতে পারিনি এবং আমি মনে করি এদেরকে কতল (হত্যা) করা আমার এবং আমাদের সকল মুসলিমদের ওপর ওয়াজিব হয়ে গেছে।

মামলার আসামীদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আমাদের যে কয়টি নাম বলেন, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েক জন হলেন এথিস্ট এরা’র সম্পাদক এমডি মাহাদি হাসান, সহ সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুজ্জামান, সিনিয়র সহ সম্পাদক মিজানুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ সাইফুজ্জামান ও উমায়েদ হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার উম্মা কুলসুম নারগিস বানু, এমডি জিল্লুর রহমান, অনিকা হক মল্লিক,শ্রাবণী শিকদার, মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসেন, মহাম্মদ ফাহিদুল আলম, মুহাইমিনুল বিশ্বাস পারভেজ, জোবায়ের হোসেন, বিপ্লব পাল, এম ডি হাসান তৌহিদ, মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান, নুর মোহাম্মদ, জনি জোসেফ কস্তা, সহ আরো অনেকে।

এদিকে মিছিল এবং সমাবেশে থাকা কয়েকজনের সাথে কথা হলে তারা সাংবাদিকেদের জানান যে, ‘‘বর্তমানে নাস্তিক এবং কিছু নব্য ব্লগারদে উৎপাত এতটাই বেড়েছে যে এগুলো মেনে নেওয়া কোনও মুসলমানদের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে একটা কথা স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমাদের কলিজার টুকরা হযরত মুহাম্মদ সাঃ কে নিয়ে কেউ কিছু বললে তাকে এই পৃথিবী থেকে বিদায় করা আমাদের ঈমানী দায়িত্ব।‘‘

তাদের মধ্যে আর একজন ইসলামী ব্যক্তিত্ব মুফতি ফজলুর রহমান বলেন, ‘‘নাস্তিকদের গালি দিলে কারও গায়ে লাগলে আমার করার কিছু নাই। আল্লাহর দেশে থাকতে হলে আল্লাহকে না দেখে আল্লাহর অস্তিত্ব মানতে হবে, না হলে তুমি আল্লাহর দেশে থাকতে পারবে না।’’

এদিকে সমাবেশ চলাকালে মুফতি আহমদ উল্লাহ জিহাদী উপস্থিত থাকা দ্বীনদার ভাইদের উদ্দেশে বলেন যে, ‘‘যদি কোন মুসলিম মুরতাদ হয়ে যায় এবং মুরতাদের সকল শর্ত তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় (সুস্থ- মস্তিস্ক, বালেগ, স্বাধীন ইচ্ছাশক্তির অধিকারী হওয়া) তাহলে তার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হবে এবং ইমাম তথা মুসলমানদের শাসক অথবা তাঁর প্রতিনিধি যেমন বিচারক তাকে হত্যা করবে। তাকে গোসল করানো হবে না, তার জানাযা-নামায পড়ানো হবে না এবং তাকে মুসলমানদের গোরস্থানে দাফন করা হবে না।‘‘

হেফাজেত ইসলামে এক কর্মীর কাছে দেয়ালে পোস্টার লাগানোর বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি আমাদের বলেন যে, ‘‘সমস্ত ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক-মুরতাদ যারা আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (সা.) আল্লাহ এবং আমাদের ধর্ম নিয়ে ব্যঙ্গ করবে, গালি-গালাজ করবে, কটূক্তি করবে তারা সবাই আমাদের টার্গেট। ইনশাআল্লাহ আমরা তাদের হত্যা করবো।’’

উল্লেখ্য, হেফাজতে ইসলাম নাস্তিক এবং ব্লগারদের ছবি যেভাবে দেয়ালে দেয়ালে লাগিয়েছে, ২০১৬ সালে ঠিক এভাবেই ফেসবুক পেজে চার ব্লগারের ছবি প্রকাশ করে হত্যার হুমকি দিয়েছে জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম। তারা হচ্ছেন আসিফ মহিউদ্দিন, সানিউর রহমান, শাম্মি হক ও অনন্য আজাদ। তারা সবাই এখন প্রবাসী। জঙ্গি হামলার ভয়ে এসব ব্লগার ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট অনেক আগেই দেশ ছেড়েছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায় বাদী আরিফ রাব্বানী কর্তৃক আনীত মামলার নম্বর ৪১৮/২০২০। মামলাটি দায়ের করা হয়েছে ঢাকা সাইবার ট্রাইবুন্যালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৫, ২৮, ২৯, এবং ৩১ ধারার অধীনে ২১ জন আসামীর বিরূদ্ধে। মামলাটি তদন্তাধীন।

ব্লগার এবং নাস্তিকদের বিচারের দাবিতে দেয়ালে দেয়ালে পোষ্টার এবং মিছিল।

এস রিফাত, স্টাফ রিপোর্টার

হেফাজতে ইসলামসহ আরো কয়েকটি ইসলামী সংগঠন বেশ কিছুদিন ধরেই সরকারকে ব্লগার এবং নাস্তিকদের আইনের আওতায় এনে তাদের যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে চাপ দিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইসলামী দলগুলোকে বাংলাদেশের বিভিন্নস্থানে মিছিল এবং সমাবেশ করে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়। তাছাড়া কোনও কোনও এলাকার অলিতে-গলিতে দেয়ালে দেয়ালে নাস্তিকদের পোষ্টার লাগিয়ে হত্যা করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

এর আগে (গত রবিবার) হৃদয় কাজী নামের হেফাজতে ইসলামের একজন সক্রিয় কর্মী ‘এথিস্ট নোট’ নামের একটি ম্যাগাজিনের সকল ব্লগার/ নাস্তিকদের নামে মামলা দায়ের করেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত খবর নিয়ে জানা যায় যে, এথিস্ট এরা নামের এই ওয়েবসাইটটি ইসলাম ধর্মকে অত্যন্ত নোংরাভাবে ফুটিয়ে তুলে একটি ম্যাগাজিন প্রকাশিত করে। মূলত যা দেখেই ইসলামী সংগঠনগুলো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে।

এ বিষয়ে মামলার বাদি হৃদয় কাজীর সাথে কথা হলে তিনি আমাদের বলেন ’’হঠাৎ করেই ফেসবুকের মাধ্যমে এই ম্যাগাজিনটি আমার চোখে পড়ে, আমি কৌতুহল বশত এটি ডাউনলোড করে দেখতে পারি সেখানে ধর্ম, মুসলিম, কোরআন এবং আমাদের প্রাণপ্রিয় নবী মোহাম্মদ (সঃ) কে নিয়ে নানাবিদ কুরুচিপূর্ন  শব্ধ ব্যবহার করে ‘বিনাশ হোক ধর্ম‘ নামে এই মাগাজিনটি প্রকাশিত করে, যা একজন মুসলিম হিসেবে মেনে নিতে পারিনি এবং আমি মনে করি এদেরকে কতল (হত্যা) করা আমার এবং আমাদের সকল মুসলিমদের ওপর ওয়াজিব হয়ে গেছে।

মামলার আসামীদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আমাদের যে কয়টি নাম বলেন, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েক জন হলেন এথিস্ট নোটে’র সম্পাদক খায়রুল্লাহ খন্দকার, সহ সম্পাদক আমিনুল হক, লেখক প্রশান্ত বাড়ই, এম ডি তোফায়েল হোসাইন এমডি জিল্লুর রহমান, অনিকা হক মল্লিক,শ্রাবণী শিকদার, মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসেন, মহাম্মদ ফাহিদুল আলম, মুহাইমিনুল বিশ্বাস পারভেজ, জোবায়ের হোসেন, বিপ্লব পাল, এম ডি হাসান তৌহিদ, মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান, নুর মোহাম্মদ, জনি জোসেফ কস্তা, সহ আরো অনেকে।

প্রশান্ত বাড়ই নামে এক ব্যক্তির ফাঁসি চেয়ে দেয়াল লিখন

এদিকে মিছিল এবং সমাবেশে থাকা কয়েকজনের সাথে কথা হলে তারা সাংবাদিকেদের জানান যে, ‘‘বর্তমানে নাস্তিক এবং কিছু নব্য ব্লগারদে উৎপাত এতটাই বেড়েছে যে এগুলো মেনে নেওয়া কোনও মুসলমানদের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে একটা কথা স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমাদের কলিজার টুকরা হযরত মুহাম্মদ সাঃ কে নিয়ে কেউ কিছু বললে তাকে এই পৃথিবী থেকে বিদায় করা আমাদের ঈমানী দায়িত্ব।‘‘

তাদের মধ্যে আর একজন ইসলামী ব্যক্তিত্ব মুফতি ফজলুর রহমান বলেন, ‘‘নাস্তিকদের গালি দিলে কারও গায়ে লাগলে আমার করার কিছু নাই। আল্লাহর দেশে থাকতে হলে আল্লাহকে না দেখে আল্লাহর অস্তিত্ব মানতে হবে, না হলে তুমি আল্লাহর দেশে থাকতে পারবে না।’’

এদিকে সমাবেশ চলাকালে মুফতি আহমদ উল্লাহ জিহাদী উপস্থিত থাকা দ্বীনদার ভাইদের উদ্দেশে বলেন যে, ‘‘যদি কোন মুসলিম মুরতাদ হয়ে যায় এবং মুরতাদের সকল শর্ত তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় (সুস্থ- মস্তিস্ক, বালেগ, স্বাধীন ইচ্ছাশক্তির অধিকারী হওয়া) তাহলে তার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হবে এবং ইমাম তথা মুসলমানদের শাসক অথবা তাঁর প্রতিনিধি যেমন বিচারক তাকে হত্যা করবে। তাকে গোসল করানো হবে না, তার জানাযা-নামায পড়ানো হবে না এবং তাকে মুসলমানদের গোরস্থানে দাফন করা হবে না।‘‘

হেফাজেত ইসলামে এক কর্মীর কাছে দেয়ালে পোস্টার লাগানোর বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি আমাদের বলেন যে, ‘‘সমস্ত ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক-মুরতাদ যারা আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (সা.) আল্লাহ এবং আমাদের ধর্ম নিয়ে ব্যঙ্গ করবে, গালি-গালাজ করবে, কটূক্তি করবে তারা সবাই আমাদের টার্গেট। ইনশাআল্লাহ আমরা তাদের হত্যা করবো।’’

উল্লেখ্য, হেফাজতে ইসলাম নাস্তিক এবং ব্লগারদের ছবি যেভাবে দেয়ালে দেয়ালে লাগিয়েছে, ২০১৬ সালে ঠিক এভাবেই ফেসবুক পেজে চার ব্লগারের ছবি প্রকাশ করে হত্যার হুমকি দিয়েছে জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম। তারা হচ্ছেন আসিফ মহিউদ্দিন, সানিউর রহমান, শাম্মি হক ও অনন্য আজাদ। তারা সবাই এখন প্রবাসী। জঙ্গি হামলার ভয়ে এসব ব্লগার ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট অনেক আগেই দেশ ছেড়েছেন।