প্রবাসী ছাত্রদলের নেতার বাড়িতে হামলা

প্রবাসী ছাত্রদলের নেতার বাড়িতে হামলা

মিজানুর রহমান খান, নান্দাইল প্রতিনিধি

যুক্তরাজ্য প্রবাসী ছাত্রদলের নেতা এম ডি সামিউল আলমের ময়মনসিংহের ঘোষপালস্থ পৈত্রিকবাড়ীতে স্থানীয় মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রী সহ তৌহিদী জনতা হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনায় সামিউলের পিতা শফিকুল আলম বুকে ও হাতে মারাত্নক জখম হন। এতে করে সামিউলের বাসা ব্যাপক ভাংচুরে ক্ষতগ্রস্থ হয়।

এলাকাবাসীর সহযোগিতায় সামিউলের পরিবারের সদস্যরা দ্রুত নিরাপদে পাশের গ্রামে গিয়ে আশ্রয় নেন। এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে যে, যুক্তরাজ্যের ছাত্রদল নেতা এমডি সামিউল আলম গত জুলাইতে বাংলাদেশে হয়ে যাওয়া অভ্যুত্থানকে সমর্থন করলেও ওভুত্থান পরবর্তী সময় বাংলাদেশে মৌলবাদের ব্যাবক বিস্তার নিয়ে তাঁর ব্যাক্তিগত ব্লগ সহ নানাবিধ অনলাইন প্লাটফর্মে লেখালেখি করতে থাকেন।

একইদিকে মুক্তিযোদ্ধাদের উপর ক্রমাগত আক্রমণে তিনি বাংলাদেশের ইসলামী দলগুলোকে দোষারোপ করেন। সামিউলের লেখার জের ধরে নান্দাইল বাজারে সামিউলের বাবা শফিকুলকে গত প্রায় দুই সপ্তাহ আগে স্থানীয় জামাত নেতা মীর আবুল কাশেমী হুমকি দেয়। ছেলেকে নিয়ন্ত্রন না করতে পারলে ভিটামাটি থাকবেনা বলেও প্রকাশ্যে তিনি সামিউলের বাবাকে বলেন।

এমন অবস্থায় সামিউলের বাবা থানাতে জিডি করতে গেলে থানার ওসিএই জিডি নিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। ধারনা করা হচ্ছে সামিউলের লেখালেখি ও জামাত নেতার হুমকির জের ধরেই স্থানীয় মাদ্রাসার ছাত্ররা সামিউলের বাবার বাড়িতে হামলা চালায়। এই ঘটনার জের ধরে স্থানীয় জামাত নেতা জনাব কাশীমের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি এই ঘটনার দায় সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন এবং বলেন তিনি ও সামিউলের পিতা অনেক ভালো বন্ধু।

এদিকে স্থায়ী বিএনপি অফিসে এই ঘটনার ব্যাপারে নান্দাইল ছাত্র দলের রাকিব উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, সামিউল ছাত্রদলের কমিটিতে নেই এবং নিজেকে ছাত্রদলের কর্মী পরিচিয় দিয়ে দেশের আলেম ওলামা সম্পর্কে আজে বাজে মন্তব্য করলে এই দায় ছাত্রদল বা জাতীয়তাবাদী দল নিতে পারেনা।

৯৫ ভাগ মুসলমানের দেশে ইসলামের বিরুদ্ধে বললে মানুষ ফুঁসে উঠবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এদিকে ঘটনা সম্পর্কে জানতে স্থানীয় থানাতে গেলে কর্তব্যরত কর্মকর্তা জনাব আজমত আলী এই ব্যাপারে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *